সফিকুল ইসলাম রিপন
নরসিংদী প্রতিনিধি
রাজনীতি, ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড—বিভিন্ন অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে নরসিংদীর চিনিশপুর ইউনিয়নে আওলাদ হোসেন মোল্লার পরিচিতি রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এবার চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আওলাদ হোসেন মোল্লা চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে নরসিংদী জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়।
ক্রীড়া অঙ্গনে আওলাদ হোসেন মোল্লার সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত। নরসিংদীর ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্যারাম ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা জানা যায়। জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচিত।
শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠনেও রয়েছে তাঁর ভূমিকা। ব্রাহ্মন্দী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঢাকা’র ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং চিনিশপুর সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন অঙ্গনে একাধিক দায়িত্ব পালনের কারণে আওলাদ হোসেন মোল্লার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং ক্রীড়াঙ্গনে কাজ করার কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আওলাদ হোসেন মোল্লার ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, তিনি চিনিশপুর ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিতে চান। তাঁদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে ইউনিয়নটিকে আরও আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ব্যক্তির প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে আওলাদ হোসেন মোল্লাকে বর্তমানে চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একজন সম্ভাব্য বা আলোচিত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর বহুমুখী সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। তবে নির্বাচনের মাঠে সেই সাংগঠনিক পরিচিতি কতটা ভোটে রূপ নেয়, সেটিই হবে মূল বিষয়। কারণ স্থানীয় নির্বাচনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি দলীয় অবস্থান, সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভোটারদের প্রত্যাশা—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চিনিশপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আওলাদ হোসেন মোল্লার নাম আলোচনায় থাকায় আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা, দলীয় অবস্থান এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির দিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের।