এম. ওবায়েদুল কবীর, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ ও কাপড়ের হাটের টাকার বণ্টন নিয়ে একদল দুর্বৃত্তের তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২ আগস্ট) পার্শ্ববর্তী কাপড়ের হাটে হামলা চালিয়ে এক যুবককে মারধরের পর রাতে গাবতলী গ্রামে অন্তত ৬টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে সশস্ত্র হামলাকারীরা। এ ঘটনায় তাসিন (৮) নামের এক শিশুসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে।
গত (৩ আগস্ট) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মো. বাদল মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন
অভিযোগে প্রকাশ, গাবতলী গ্রামের বাদল মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী আতাহার ইস্তিয়াক গাজী, আমানউল্লাহ ভূঁইয়া, সোলেমান গাজী ও বাছেদ ভূঁইয়ার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল (২ আগস্ট) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে জিনারদী ইউনিয়নের পণ্ডিত পাড়া সাঁকুরঘাট সংলগ্ন কাপড়ের হাটের টাকার বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা বাদল মিয়ার ভাতিজা সুজন (৩০)-এর ওপর চড়াও হয়। সেখানে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে মারাত্মক নীলাফোলা জখম করা হয় এবং ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওই দিনই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গাবতলী বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাদল মিয়ার বাড়িসহ পাশাপাশি আরও ৬টি বসতবাড়ি রামদা ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীদের এই তাণ্ডবের সময় গুরুতর আহত হয় ৮ বছর বয়সী শিশু তাসিন।
ঘটনার পর থেকে এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে মামলা না করার জন্য এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার আবেদনকারী মো. বাদল মিয়া বলেন, “আমরা নিরীহ পরিবার। দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরে হঠাৎ করে বাজারে আমাদের লোকজনকে পিটিয়ে রাতে বাড়িতে এসে তাণ্ডব চালানো হলো। শিশুটি পর্যন্ত রেহাই পায়নি। আমাদের ৬টি পরিবারের সবকিছু ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে পলাশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, “গাবতলী এলাকার এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সচেতন মহল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অবিলম্বে ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।